Bengali versionFrench versionGerman versionJapanese versionNatherland  versionEnglish version

ইপসা- কিশোর কিশোরী প্রজনন স্বাস্থ্য প্রকল্প আয়োজিত, সুস্থ্য কৈশোর - সমৃদ্ধ স্বদেশ পিয়ার সমাবেশ

প্ল্যান বাংলাদেশ ও সিডার আর্থিক ও কারিগরী সহায়তায় পরিচালিত ইপসা-কিশোর কিশোরী প্রজনন স্বাস্থ্য প্রকল্পের ম্ধ্যামে সীতাকুণ্ড ৫টি ইউনিয়নে ২৫০০০ হাজার কিশোর কিশোরী মধ্যে প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ক কার্যক্রম বা¯Íবায়ন করে আসছে তারই ধারাবাহিকতায় সীতাকুণ্ডে ইপসা মানব সম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্রে ”আজকের কিশোর কিশোরী আগামীদিনের ভবিষ্যত, ও আগামীদিনের পিতা,মাতা। বৈষম্যহীন পৃথিবী গড়ব সবাই,এই আমাদের অঙ্গিকার” এই শ্লোগানে ইপসা-কিশোর কিশোরী প্রজনন স্বাস্থ্য প্রকল্প আয়োজিত এক পিয়ার সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইপসার কার্য নির্বাহী পরিষদের সভাপতি জনাব,মো: সামসুদ্দীন ভুইয়া তুতুল, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইপসার প্রধান নির্বাহী জনাব মো:আরিফুর রহমান,ও বিশেষ অতিথি ইপসার পরিচালক(ফিল্ড অপারেশন)জনাব মো:মাহবুবর রহমান এবং ইউনিসেফ প্রতিনিধি, জনাব সাঈদ মিলকী,। পিয়ার সমাবেশ উপস্থাপনা করেন ইপসার কিশোর কিশোরী প্রজনন স্বাস্থ্য প্রকল্পের প্রোগ্রাম অফিসার মো: শাহ সুলতান শামীম। এতে আলোচনায় অংশ নেন কাজী আবু সুফিয়ান, সম্পাদক বয়েজ অব আমেরিকা মিতালী পত্রিকা, জনাব, জাহিদুল হক খান প্রোগ্রাম অফিসার, বিএনএন আরসি। উক্ত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, আজকের কিশোর কিশোরী আগামীদিনের ভবিষ্যত,আগামী দিনের কর্ণদ্ধার,ও আগামীদিনের পিতা,মাতা সুতরাং তাদের প্রজনন স্বাস্থ্য সুরÿা করতে পারলেই এই কিশোর কিশোরীদের শারিরিক ও মানষিক ভাবে সুস্থ্য থাকবে। এবং আগামী প্রজন্ম সৃষ্টিতে তাদের সুষ্ঠ ভুমিকা রাখতে পারবে। আলোচনা শেষে মনোঙ্গ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও র‌্যাফেল ড্র সহ অনুষ্ঠতব্য বিভিন্ন ইভেন্টে খেলাধুলাই আংশগ্রহনকারী ১ম,২য়,৩য়, স্থান অধিকারীদের পুরস্কার বিতরন করা হয়।

মিরসরাইয়ে বন বিভাগের উর্ধতন কর্মকর্তাদের ইপসার কার্যক্রম পরিদর্শন

চট্টগ্রাম বন বিভাগের উর্ধতন কর্মকর্তারা উন্নয়ন সংগঠন ইপসার বন ও জীব বৈচিত্র রক্ষা এবং সংরক্ষন বিষয়ক প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন। ১৪ মার্চ বুধবার সকালে মিরসরাই সদর ইউনিয়নের মধ্যম তালবাড়িয়া গ্রামে ইপসার বন নির্ভর দলসমুহের সাথে সভায় মিলিত হন বন কর্মকর্তারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় বন সংরক্ষক শফিউল আলম চৌধুরী, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা উত্তম কুমার সাহা, সহকারী বন সংরক্ষক মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, মিরসরাই সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাফর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, মিরসরাই রেঞ্জ কর্মকর্তা শহিদুল আলম।

সভায় ইপসার বন নির্ভর সদস্যের নিয়ে দলের প্রতিনিধিরা তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন। তারা বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে তারা সংগঠিত ভাবে বন রক্ষার পাশাপাশি তাদের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ইপসার সহযোগীতা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বিভাগীয় বন সংরক্ষক শফিউল আলম চৌধুরী ইপসার সহযোগীতায় সামষ্টিকভাবে বন রক্ষা এবং দারিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়নের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তিনি বন নির্ভর সদস্যদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বন বিভাগ সহ একত্রে কাজ করার আশ্বাস প্রদান করেন। আলোচনা শেষে বন কর্মকর্তারা প্রকল্পের উপকারভোগীদের বিভিন্ন আয়বর্ধন মূলক কাজ পরিদর্শন করেন।

ইপসা প্রধান নির্বাহীর আমেরিকান সরকারের লেজিসলেটিভ ফেলোশীপ অর্জন

Md. Arifur Rahmanআমেরিকান ডিপার্টমেন্ট অব ষ্টেট কর্তৃক সমাজ উন্নয়ন সংগঠন ইপসা’র প্রধান নির্বাহী মোঃ আরিফুর রহমান উন্নয়ন সংগঠক হিসেবে লেজিসলেটিভ ফেলো নির্বাচিত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অত্যন্ত সম্মানজনক এ ফেলোশীপের আওতায় ১১ ই এপ্রিল হতে ৮ ই মে ২০১২ ইং পর্যন্ত তিনি ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থান করবেন। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের লেজিসলেটিভ প্রসেস এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সুশীল সমাজের ভূমিকা ও অংশগ্রহণ এবং বাংলাদেশ - আমেরিকান নাগরিক প্রতিষ্ঠান সমূহের সম্পর্ক উন্নয়ন বিষয়ে বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সরকারের কার্যক্রম, নীতিমালা প্রণয়ন ও বা¯Íবায়নে নাগরিক , জনপ্রতিনিধি গবেষকবৃন্দের অংশগ্রহণ ও সমন্বয় কার্যক্রম প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, ভয়েস অব আমেরিকা, কমিউনিটি রেডিও, বিভিন্ন গনমাধ্যম প্রতিষ্ঠান সমূহ পরিদর্শন ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বিনিময় সম্পর্কিত সভায় অংশগ্রহণ করবেন।

দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সবার জন্য স্বাস্থ্য বীমা চালু করা প্রয়োজন

 বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০১২ উপলক্ষে সুপ্রর আলোচনায় বক্তারা

স্বাস্থ্য শুধু মানুষের অন্যতম মৌলিক মানবাধিকারই নয় বরং তা এখন মানব উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকও। তার স্বীকৃতি দিতেই ১৯৪৮ সালে প্রথম বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে ৭ এপ্রিল স্বস্থ্য দিবস উদযাপনের প্রস্তাব গৃহিত হয়। সারা পৃথিবীতে গড় আয়ু বৃদ্ধির সাথে সাথে বাড়ছে বৃদ্ধ মানুষের সংখ্যা, তার সাথে সাথে যোগ হচ্ছে তাদের স্বস্থ্য বিষয়ে দুশ্চিন্তা। সে কারণেই তাদের স্বাস্থ্য বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরী ও নীতি নির্ধারকদের প্রভাবিত করার লক্ষ্যে এ বছর স্বাস্থ্য দিবসে সুপ্রর প্রতিপাদ্য বিষয় “সুস্থ জীবন, সজীব মন, আলৈাকিত দীর্ঘ জীবন।
দেশে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যার জন্য পর্যায়ক্রমে ১০৭২৩ টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করা হলেও এর মধ্যে অনেকটি কাঙ্খিত পর্যায়ে চলছে না। তবে বর্তমানে আরও ২৮৭৬ টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। সাধারণ চিকিৎসা সেবার অনেকগুলো ব্যবস্থা থাকলেও বয়স্ক চিকিৎসার কোন বিশেষ ব্যবস্থা সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাই নাই বললেই চলে। দেশে শুধুমাত্র বেসরকারি উদ্যোগে একটি প্রবীণ হিতৈষী হাসপাতাল আছে। বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পাচ্ছে সাথে সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা। এ বিষয়টিকে মাথায় রেখে বর্তমান ও ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য বিষয়ক যেকোন কার্যক্রম গ্রহন করতে হবে। পাশাপাশি দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সবার জন্য স্বাস্থ্য বীমার ব্যবস্থা করতে হবে।;
 
সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান-সুপ্র চট্টগ্রাম জেলা কমিটির আয়োজনে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০১২ উদযাপন উপলক্ষে ইপসা কনফারেন্স রুমে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা উপরোক্ত মতামত প্রদান করেন। সুপ্র চট্টগ্রাম জেলা কমিটির নির্বাহী সদস্য এবং নির্মল ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. সৈয়দ দিদারুল মুনীর রুবেল’র সভাপতিত্বে এবং ইপসা’র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামের পরিচালনায় আয়োজিত উক্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ইপসা’র পরিচালক (ফিল্ড অপারেশন) মো: মাহাবুবুর রহমান, ইপসা’র হেলথ প্রোগ্রামের টীম লিডার খালেদা বেগম, কোকদন্ডী নারী উন্নয়ন সমিতির প্রধান নির্বাহী শোভা ধর, যক্ষা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের ডা. বিশ্বরূপ দেব, ডিআরসি’র শাহরিয়ার আদনান এবং জিএফটিএম ৯১২ প্রকল্পের আকবর রেজা। সভায় বক্তারা সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বয়স্ক স্বাস্থ্য সেবা চালু করা এবং বয়স্কদের স্বাস্থ্য রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহন করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। স্বাস্থ্যখাতের বেসরকারিকরণ বন্ধসহ স্বাস্থ্যখাতে বিরাজমান জনবল সংকট নিরসনে অবিলম্বে সকল শূণ্যপদে নিয়োগ নিশ্চিত করার জন্য দাবী রাখেন বক্তারা। এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০১২ উদযাপন উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি কেন্দ্রীয শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন অফিস প্রাঙ্গনে গিয়ে শেষ হয়। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাং আবু তৈয়ব র‌্যালী উদ্বোধন করেন।
 

 

‘গৃহকর্তা পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে কিশোরী গৃহকর্মীদের নিরাপত্তা ও জীবন মানের উন্নয়ন হবে’

ইপসার উদ্যোগে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের সাথে কিশোরী গৃহকর্মীদের সুরক্ষা শীর্ষক প্রকল্পের এক মতবিনিময় সভা ৩১ ইপসার প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। জাপান ভিত্তিক দাতা সংগঠন শাপলা নীড়ের অর্থায়নে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভা সঞ্চালনা করেন ইপসার পরিচালক (অর্থ) পলাশ চৌধুরী। ইপসার সেইফার লাইফ অব গার্ল ডোমেস্টিক ওয়ার্কার প্রকল্পের ব্যবস্থাপক ইয়াসমিন আকতার প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম উপস্থাপন করেন।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, জাহানারা বেগম, আনজুমান আরা বেগম, ইপসার পরিচালক (অর্থনৈতিক উন্নয়ন) মোরশেদ চৌধুরী, দৈনিক প্রথম আলোর সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার হামিদ উল্ল্যাহ, ডেইলি স্টারের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার দ্বৈপায়ন বড়–য়া, দেশ টিভির চট্টগ্রাম প্রতিনিধি আলমগীর সবুজ, সুপ্রভাত বাংলাদেশের স্টাফ রিপোর্টার আহছানুল কবির রিটন, বাংলাবাজার পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার মেহেদী হাসান, আজাদীর স্টাফ রিপোর্টার রেজা মোজাম্মেল, ভোরের কাগজ প্রতিনিধি আবু বক্কর বাবুল প্রমুখ।

মত বিনিময় সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমাদের সমাজে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে উচ্চ পর্যায়ে কিশোরী গৃহকর্মীরা নির্যাতিত হচ্ছে। গৃহকর্তা পর্যায়ে সচেতনতা কার্যক্রম বৃদ্ধি করা গেলে গৃহকর্মীদের নির্যাতনের মাত্রা কমে আসবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। গৃহকর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং তাদের জীবন মান উন্নয়নে সমাজের সুবিধা বঞ্চিত এই শ্রেনীকে নিয়ে ইসপার ব্যতিক্রমধর্মী নান্দনিক উদ্যেগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা যদি গৃহকর্মীদের প্রতি ইতিবাচক হই তাহলে গৃহকর্মীদের কাজের ক্ষেত্র নিরাপদ হবে।

জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস ২০১২ উপলক্ষে সীতাকুণ্ডে আলোচনা সভা ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান

গত ২এপ্রিল সীতাকুণ্ড উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিট ‘র উদ্যোগে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উপলক্ষ্যে র্র‌্যালি,আলোচনা সভা ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষার অফিসার,উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষার অফিসার,উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। র‌্যালীতে সীতাকুণ্ড উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী,প্রতিবন্ধী সংগঠনের প্রতিনিধি,দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির স্বেচ্ছাসেবক,ফেডারেশন অব ডিপিও প্রতিনিধি সহ আরো অনেকে। জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উপণক্ষে ৪টি প্রাথমিক ও ৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে নিয়ে আয়োজিত চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় ১ম,২য় ও ৩য় স্থান নির্ধারনী ২৪ জন ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে রেডিও,ডিকশনারী সহ বিভিন্ন পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।

 

সীতাকুণ্ডে ‘রেডিও সাগরগিরি’ আনুষ্ঠানিক সম্প্রচার শুরু

প্রান্তিক পর্যায়ে তথ্য প্রচার ও উন্নয়ন বিষয়ে সচেতনতা বাড়বে

Radio Sagor Giri Opening

গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য পৌঁছে দিতে রেডিও সাগরগিরি এফএম ৯৯.২-এর আনুষ্ঠানিক সম্প্রচার শুরু হয়েছে। ২৪মার্চ বিকাল ৩টায় বানিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব এবিএম আবুল কাশেম এমপি ‘রেডিও সাগরগিরি এফএম ৯৯.২’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

সমাজ উন্নয়ন সংগঠন ‘ইপসা’ কর্তৃক পরিচালিত রেডিও সাগরগিরি চট্টগ্রামে সরকার অনুমোদিত প্রথম কমিউনিটি রেডিও। ইপসার সভাপতি মো. সামসুদ্দিন ভুঁইয়া তুতুলের সভাপতিত্বে এবং ইপসার প্রধান নির্বাহী মো.আরিফুর রহমানের সঞ্চালনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ছিলেন- সীতাকুণ্ড উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল বাকের ভুঁইয়া, সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.আলমগীর হোসেন, রেডিও সাগরগিরিএফএম ৯৯.২-এর ব্যাবস্থাপনা পরিষদ সভাপতি ডা. এখলাস উদ্দিন,বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সীতাকুণ্ড শাখার সভার সুরাইয়া বাকের। সন্মাণিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন-বাংলাদেশ এনজিও’জ নেটওয়ার্ক ফর রেডিও এন্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম বজলুর রহমান, ইউনিসেফ প্রতিনিধি সাঈদ মিল্কি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক এস এম শামীম রেজা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শহীদুল্লা রিপন, বেতার বাংলা (লন্ডন, ইউ কে) নিবার্হী পরিচালক গোলাম মো. চৌধুরী নাজিম, এশিয়ান ইউনির্ভাসিটি ফর ওমেন এর সহকারী অধ্যাপক ড: ফাহিম হোসাইন, ইপসা, পরিচালক (ফিল্ড অপারেশন) মো: মাহাবুবুর রহমান প্রমূখ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, রেডিও সাগরগিরি এফএম ৯৯.২ এর মূল উদ্দেশ্য হলো সম্প্রচার এলাকায় দারিদ্রতা বিমোচনে তথা সার্বিক সমাজ উন্নয়নে জনগণের মাঝে সহজবোধ্য ও স্থানীয় ভাষায় জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহনের মাধ্যমে কৃষি, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন, অধিকার, সেবাসহ নানা আর্থ সামাজিক ও সংস্কৃতি সংশ্লিষ্ট তথ্য ও সৃজনশীল বিনোদনমুলক অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা।

রেডিও সাগরগিরি এফএম ৯৯.২ সম্প্রচার কেন্দ্র সীতাকুণ্ড সদরে অবস্থিত এবং এর অনুষ্ঠানমালা সীতাকুণ্ডসহ মিরশ্বরাই ও স›দ্বীপ উপজেলার কিয়দংশে বসবাসরত জনগণ শুনতে ও অংশগ্রহন করতে পারবেন। ইপসার প্রধান নির্বাহী আরিফুর রহমান জানান, এই রেডিও এ অঞ্চলের প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী তথা প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র ও নৃ-তাত্তি¡ক জনগোষ্ঠী এবং কিশোর-কিশোরী ও যুববান্ধব অনুষ্ঠান তৈরি ও সম্প্রচার করবে। সর্বোপরি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি সেবাসমূহের সমন্বয়ে ও সহযোগিতায় তথ্য অধিকার নিশ্চিতকরণে নিরন্তর কাজ করবে। তিনি আরো জানান, সীতাকুণ্ডস্থ ইপসার মানব সম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্র্রের ৪র্থ তলায় রেডিও স্টেশনটি স্থাপন করা হয়েছে। শ্রোতারা এ কেন্দ্র থেকে ১৭ কিলোমিটারের মধ্যে যে কোনো মোবাইল ফোন সেট এবং রেডিওতে প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত রেডিও অনুষ্ঠান শুনতে পাচ্ছেন। উল্লেখ্য যে, গত বছরের ২৪ অক্টোবর রেডিও সাগরগিরি এফএম ৯৯.২-এর পরীক্ষামূলক সম্প্রচার শুরু হয়।

চট্টগ্রাম শিশু পার্কে অন্যরকম একটি দিন কাটালো নগরীর কিশোরী গৃহকর্মীরা

চট্টগ্রাম শিশু পার্কে অন্যরকম একটি দিন কাটালো নগরীতে বিভিন্ন বাসায় কাজ করা কিশোরী গৃহকর্মীরা। গৃহতর্কার গৃহে বিরামহীন কাজের ফাঁকে একটি দিনকে পিকনিকের আদলে কাটানোর সুযোগ পেয়ে তারা ছিলো বেশ উৎফুল্ল। ইপসা দাতা সংস্থা শাপলা নীড়ের আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত সেইফার লাইফ অব গার্ল ডোমেস্টিক ওয়ার্কার প্রকল্পের অধীনে ৫০ জন কিশোরী গৃহকর্মী গত ১১ মার্চ রবিবার দিনব্যাপী কাজীর দেউড়ীস্থ শিশু পার্কে বাৎসরিক সমাবেশ পালন করে। ইপসা পরিচালিত মেহেদীবাগ ও বাকলিয়ায় গৃহকর্মীদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষন কেন্দ্র আনন্দলোকে অধ্যয়নরত ৮ থেকে ১৬ বছরের কিশোরী গৃহকর্মীরা এ সমাবেশে অংশ নেয়।

দুই সেন্টারের গৃহকর্মীরা সকালে এসে জড়ো হয় শিশু পার্কে। প্রবেশ মুখ পেরুতেই তারা যেন আবিষ্কার করলো নতুন একটি জগৎ। দিগ¦দিক ছুটতে থাকে সবাই। বিভিন্ন রাইড়ে চড়া, পার্কের নান্দনিক স্থাপনা পরির্দশন আর বিভিন্ন এলাকা থেকে একই পেশার সহকর্মীদের সাথে আড্ডায় মুখর হয় সবাই। ইপসার প্রকল্প ব্যবস্থাপক ইয়াছমিন আখতার, এসোসিয়েট প্রোগ্রাম অফিসার নুর মোহাম্মদ, সেন্টার অফিসার রুমি দত্ত, এসিসটেন্ট রিসার্সার শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী, কল্যান বড়–য়া মুক্তাও গৃহকর্মীদের সাথে আনন্দে একাকার হয়ে যান। গল্প বলা, কবিতা আবৃত্তি, সুরের মুর্ছনা উপস্থিত অন্য দর্শনার্থীদেরও আনন্দ দেয়।

আনন্দলোক মেহেদীবাগ সেন্টার থেকে আসা শারমিন আক্তার (১০) জানায়, এই প্রথম কোন দর্শনীয় স্থানে বেড়াতে এসেছি । এখানে এসে আমার খুব ভালো লাগছে। আমার পেশার অনেকের সাথে পরিচয় হয়েছে। আসমা আক্তার (১২) জানায়, কুমিল্লা থেকে গত ৩ বছর আগে চট্টগ্রাম শহরে এসেছি বাসায় কাজ করতে। এ তিন বছরে আমি কোনদিন পার্কে বেড়ানোর সুযোগ পাইনি। ইপসার আপুরা সে সুযোগ করে দিয়েছে। এখানে এসে তার পেশার অনেকের সাথে পরিচয় হয়েছে। সে জানায়, আনন্দলোক সেন্টারে তাদের তাদের পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষন দেওয়া হয়। এর ফলে তাদের নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাকলিয়াস্থ আনন্দলোক সেন্টার থেকে আসা গৃহকর্মী আমেনা আক্তার (১০) জানায়, দারিদ্রতার জন্য আমরা অন্যের বাসায় কাজ করি। গৃহকর্তাদের কাছ থেকে কোথাও বেড়াতে যাওয়ার কোন সুযোগ আমরা পাই না। ইপসা আমাদের সে সুযোগ করে দিয়েছে। আমরা সবাই মিলে আজ অনেক আনন্দ করেছি। অনেকগুলো রাইডে চড়েছি। ইপসার উদ্যোগে গত বছর স্বাধীনতা পার্কে পিকনিকেও সে অংশ নিয়েছিলো। ইপসার প্রকল্প ব্যবস্থাপক ইয়াছমিন আখতার জানান, আনন্দলোক প্রশিক্ষন কেন্দ্রে কিশোরী গৃহকর্মীদের পড়ালেখার পাশাপাশি তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি বিষয়ক বিভিন্ন প্রশিক্ষন প্রদান করা হয়। কিশোরী গৃহকর্মীদের মৌলিক শিক্ষা, জীবন দক্ষতা ও সৃজনশীলতা বিকাশের পাশাপাশি তাদের নিজেদের মধ্যে আনন্দ ভাগাভাগির জন্য প্রতিবছর তাদের নিয়ে দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করা হয়।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০১২ উদযাপন

তরুণ সমাজকে নারী-পুরুষের সমানাধিকারের দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে

নারী-পুরুষের সমানাধিকারের এই দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে তরুণ সমাজকে যারা ভবিষ্যতে পরিবার ও সমাজের নেতৃত্ব দেবে। যে বৈষম্য আর সুযোগহীনতার মধ্য দিয়ে এ সমাজে নারীরা বেড়ে উঠে তা অনুধাবন করে সেই সকল বৈষম্যমূলক নীতি ও প্রচলিত ধারার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে আমাদের যুব ও তরুণ সমাজকে। এজন্যই এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় তরুণ সমাজের সম্পৃক্ততায় গড়ে উঠুক সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ। এই দিনটিতে বিশ্বের প্রায় সকল দেশে নানা কর্মসূচি পালন করা হয় নারীর ন্যায্য দাবী আদায়ের অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন স্বরূপ। এ কর্মসূচি শুধু নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণের প্রয়াসই নয় বরং ভবিষ্যতের বৈষম্যহীন সমাজ তথা জাতি গঠনের প্রেরণা। কিন্তু শতবর্ষ পেরিয়ে গেলেও আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে নারীর অবস্থানের সাফল্যের সাথে বৈষম্যের দিকটিও হতাশাব্যঞ্জক। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান-সুপ্র চট্টগ্রাম জেলা কমিটি কর্তৃক আয়োজিত র‌্যালী পূর্ব মতবিনিময় সভায় বক্তারা উপরোক্ত মতামত প্রদান করেন। র‌্যালীটি চ্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমী থেকে শুরু হয়ে জেলা শিশু একাডেমী চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

দেশের আপামর উন্নয়ন ঐ দেশের সকল জনগণের সমন্বিত প্রয়াস। সেই লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক আইন নীতি, পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধ শতাংশ নারী এবং আমাদের সংবিধানের ২৭ নং ধারায় নারীর আইনগত সমঅধিকারের কথা বলা হয়েছে। এই অর্ধ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে উন্নয়ন কর্মকান্ডের বাইরে রেখে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কখনও সম্ভব নয়। এখানে এ বিষয়ে দায়িত্ব নিতে হবে তরুণ সমাজকে। তবে বর্তমান সকল আইন ও নীতি এবং বাস্তবায়নের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করলে দেখা যায় আইনগত বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে নারী নীতি ২০১১ প্রণীত হয়। সেখানে নারীর সম্পত্তির অধিকার সম্পর্কে গুরুত্বের সাথে বলা হয়েছে। অর্থনৈতিক সাম্যই হলো অর্থনৈতিক স্বাধীনতার পূর্বশর্ত।

ইপসা, প্লান বাংলাদেশ, ঘাসফুল, ওর্য়াল্ডভিশন, বিটা ও ইলমা’র সহযোগিতায় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০১২ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত র‌্যালী উত্তর আলোচনা সভায় বক্তারা উপরোক্ত মতামত প্রদান করেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জনাব খালেদ মামুন চৌধুরী’র সভাপতিত্বে উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য হাসিনা মান্নান। উক্ত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কামরুল হাসান, ইলমা’র প্রধান নির্বাহী জেসমিন সুলতানা পারু, ইপসা’র খালেদা বেগম, মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, শাহরিয়ার অদনান শান্তুনু, প্ল্যান বাংলাদেশের শরিফুল আলম প্রমূখ। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা অঞ্জনা ভট্টাচার্য। আলোচনা সভার পূর্বে বিটা’র পরিবেশনায় “কুসুমের বেড়ে উঠা” নাটকটি প্রদর্শিত হয়।

 

Print